গাজায় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ দিন

৩৮ জন নিহত

0 comments 101 views

গাজায় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সামনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সোমবার ছিল সর্বাধিক প্রাণঘাতী দিন। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, এদিন ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালিয়ে অন্তত ৩৮ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চলের বাসিন্দা। গত এক মাসে, নতুনভাবে চালু হওয়া সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থা শুরুর পর থেকে অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এই মানুষগুলো শুধুমাত্র পরিবার-পরিজনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

রাফাহর একটি সহায়তা কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত স্বজনের মরদেহের পাশে এক নারী শোক প্রকাশ করছেন। [হাতেম খালেদ/রয়টার্স]

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই বিতরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, তাদের সামনে এখন দুটি পথ—ক্ষুধায় মারা যাওয়া কিংবা গুলি খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা কেন্দ্রে যাওয়া। প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনারা এসব সহায়তা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হওয়া নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালাচ্ছে। তাদের ভাষায়, তারা “সন্দেহভাজনদের” দিকে “সতর্কতামূলক গুলি” ছুড়েছে, কিন্তু বাস্তবে প্রাণ হারাচ্ছেন ক্ষুধার্ত সাধারণ মানুষ।

রাফাহতে সহায়তা নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আহত এক ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। [এএফপি]

ইসরায়েল দাবি করছে, পূর্বের জাতিসংঘ পরিচালিত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় হামাস খাদ্যদ্রব্য হাতিয়ে নিচ্ছিল, তাই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ এবং ডক্টরস উইদআউট বর্ডারসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস-এর সমন্বয়কারী আনা হ্যালফোর্ড বলেন,

“এটি কোনো মানবিক উদ্যোগ নয়, এটি একটি প্রাণঘাতী বিশৃঙ্খলা। ইসরায়েল একটি কার্যকর মানবিক ব্যবস্থা ধ্বংস করছে।”

এই বিতর্কিত সহায়তা কেন্দ্রগুলো এমন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে, এবং সমালোচকদের ভাষায় এগুলোকে বলা হচ্ছে “কসাইখানা”। [আবদেল কারিম হানা/এপি ফটো]

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং মানবিক সহায়তায় কড়াকড়ি আরোপ করার কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা তীব্রতর হচ্ছে। বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫,৪৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ১,২৮,৯২৩ জন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,১৩৯ জন এবং দুই শতাধিক মানুষ জিম্মি করা হয়।

এই বাস্তবতায় ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইসরায়েল খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা চায় গাজার জনগণকে ক্ষুধা, অনাহার ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের নির্জন এলাকাগুলোতে জোরপূর্বক স্থানান্তর করতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইসরায়েলের এই ‘ক্ষুধানীতির’ ফলে গাজাবাসীদের মানবিক বিপর্যয় দিনকে দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

About Us

সম্পাদক: মোহাম্মদ আলমগীর

©2025 – All Right Reserved To NJ Bangla world. 

Powered BY  Milestone