বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র

৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ

0 comments 62 views
এনজে বাংলা ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

অবশেষে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার আর বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে নতুন এই শুল্ক হার ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংস্থা ‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)’ এর মধ্যে তৃতীয় ও চূড়ান্ত দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর এ কথা জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত করার আগ মুহূর্তে ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার ৭০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তিগুলো শুধু শুল্ক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে এমন অভ্যন্তরীণ নীতিগত সংস্কারও এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগের দিকগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। আলোচনার অংশ হিসেবে, দেশগুলোকে মার্কিন পণ্য কেনার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি দেশের শুল্কহার নির্ধারিত হয়েছে এসব বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতির গভীরতার ভিত্তিতে।

প্রেস উইং ওই বার্তায় উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্কহার পেয়েছে যা তার মূল পোশাক খাতের প্রতিযোগীদের (যেমন শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া যারা ১৯ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পেয়েছে) অনুরূপ। এর ফলে, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের আপেক্ষিক প্রতিযোগিতা অক্ষুণ্ন থাকছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে আলোচনা করেছি যাতে আমাদের প্রতিশ্রুতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমাদের পোশাক শিল্পকে রক্ষা করাই ছিল আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার, তবে আমরা মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির দিকেও মনোযোগ দিয়েছি। এটি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্য তৈরি করবে।’

তিনি বলেন, “আজ আমরা সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এড়াতে পেরেছি। এটা আমাদের পোশাক শিল্প এবং এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য সুখবর। একই সঙ্গে আমরা আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি করেছি।”

বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে যার মধ্যে তৈরি পোশাকই ছিল ৭৩৪ কোটি ডলারের।

বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ এবং পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ শুল্কারোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর চীনকে দেয়া হয়েছে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক।

এদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের শুল্ক আলোচক দলকে আমরা গর্বের সঙ্গে অভিনন্দন জানাই যা এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়।”

ইউনূস বলেন, “চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তারা নিরলস পরিশ্রম করে এই জটিল আলোচনা চালিয়ে এসেছেন যার মধ্যে ছিল শুল্ক, অশুল্ক বাধা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক নানা চ্যালেঞ্জ। এই চুক্তি বাংলাদেশের তুলনামূলক বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় রেখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করেছে এবং দেশের মৌলিক স্বার্থ সুরক্ষিত করেছে।”

Leave a Comment

About Us

সম্পাদক: মোহাম্মদ আলমগীর

©2025 – All Right Reserved To NJ Bangla world. 

Powered BY  Milestone